Monday, 23 February 2026
ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী—আরিফুল হক চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, দুই মেয়াদের সফল মেয়র এবং এখন একসঙ্গে দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী—এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজেকে আধুনিক সিলেটের রূপকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেন।
১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সিলেট সফরে এলে তরুণ আরিফ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে খেলার মাঠের দাবিতে তার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যান। নিরাপত্তা শঙ্কা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি গাড়ি থামিয়ে তাদের কথা শোনেন। আরিফের দাবি মেনে তৎকালীন জেলা প্রশাসককে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। এই ঘটনাই তার অদম্য মনোভাব ও নেতৃত্বের প্রথম প্রকাশ।
১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি সক্রিয় হন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থেকে মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং পরবর্তীতে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা—ধাপে ধাপে এগিয়ে যান রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন-এর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের বড় মোড় ঘুরে যায়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নগর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে সড়ক প্রশস্তকরণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেন।
২০১৩ সালে সিটি নির্বাচনে প্রয়াত জননেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান-কে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সিলেটের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তবে রাজনৈতিক জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ আসে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় নাম জড়ানো নিয়ে। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগে আলোচিত সেই অধ্যায় কাটিয়ে আবারও জনসমর্থন অর্জন করেন।
২০১৮ সালের ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আবারও বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে নগর উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক অবকাঠামো ও নাগরিক সেবায় পরিবর্তন আনার দাবি করেন তার সমর্থকরা।
২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে সম্ভাব্য জয় নিশ্চিত মনে হলেও দলের সিদ্ধান্তে প্রার্থী হননি আরিফুল হক চৌধুরী। এই সিদ্ধান্ত তাকে দলীয় হাইকমান্ডের আস্থাভাজন করে তোলে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সিলেট-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাকে সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নতুন আসনে মাত্র ২০ দিনের প্রচারণায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেন, মাটি ও মানুষের সঙ্গে তার সংযোগ এখনও অটুট। রাজনৈতিক জীবনে কখনো পরাজয়ের স্বাদ না পাওয়ার বিষয়টি তার সমর্থকদের কাছে ‘ম্যাজিক ম্যান’ তকমা এনে দেয়।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির আমন্ত্রণ পান আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেটের রাজপথ থেকে সচিবালয়ের শীর্ষ পর্যায়—আরিফুল হক চৌধুরীর এই উত্থান তৃণমূল রাজনীতিকদের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প। এখন দেখার বিষয়, উন্নয়নের যে ছাপ তিনি সিলেটে রেখেছেন, জাতীয় পর্যায়ে সেই ‘চমক’ কতটা দেখাতে পারেন নতুন দায়িত্বে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Author Details
July24bd একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনলাইন সংবাদভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশ ও বিদেশের সর্বশেষ খবর দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে রাজনীতি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, খেলাধুলা, বিনোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী নানা বিষয়ের সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
July24bd বিশ্বাস করে—
সঠিক তথ্যই একটি সচেতন সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি।
পাঠকের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চা করে যেতে চাই।
আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
— July24bd টিম

No comments:
Post a Comment